বায়ো-ডাইভারসিটি লইয়া কি করিব?

বায়ো-ডাইভারসিটি

“বায়ো-ডাইভারসিটি” বাইপাসে কিংবা বেঙ্গালুরু তে ফ্লাটের চাবি দেয় না,
১০% বৃদ্ধির স্বপ্ন ফিরি করে না,
মাগনায় চাল বা সাইকেল দেয় না,
ফিয়াত বা রোলস- রয়েস প্রসব করে না,
চাকরি দেয় না, উন্নয়নের জোয়ার আনতে পারে না।

কয়েকটা মাছ, গোসাপ, কচ্ছপ, শামুক -খোল, ভোঁদড়, গন্ধ- গোকুল, বন- বেড়াল, হাজার প্রজাতির গাছ চিরতরে লুপ্ত হয়ে গেলে কার কি যায় আসে? ডাইনোসর- ডোডো পাখি- গ্যালাপগাস দ্বীপের কয়েক প্রজাতি কচ্ছপ তো কবেই দাঁত – ছিরকুটে লুপ্ত হয়েছে– চিরতরে। আর গণ- বিলুপ্তি (mass- extinction) তো এর আগে অন্ততঃ পাঁচবার এই ধরণীতে ঘটেছে—ধুয়ে মুছে চিরতরে সাফ হয়েছে কয়েক মিলিয়ন উদ্ভিদ আর প্রাণী প্রজাতি।

হ্যাঁ – প্রত্যেক বারই কিন্তু চরম- ভাবাপন্ন প্রকৃতি ছিল এই গণ বিলুপ্তির কারন। প্রকৃতির এই পরিবর্তন হয়েছে কয়েক কোটি বছরের সময়- কালে –ফলতঃ গণ বিলুপ্তি গুলির মধ্যের সময়কাল ৫ থেকে ১০ কোটি বছর । তুলনাটি পরিষ্কার হবে যদি বলি– এই যে আমাদের মানুষ প্রজাতির (Homo s Sapiens) উদ্ভব মাত্র চল্লিশ হাজার বছর আগে। কিন্ত কোটি বছর নয় – এই তো সেদিন জেমস ওয়াট তৈরি করলেন স্টিম ইঞ্জিন—সভ্যতার চাকা ঘুরতে লাগল নক্ষত্রবেগে। তাতে কি হল দেখা যাক—১৯০০ সাল নাগাদ বাতাসের কার্বন- ডাই- অক্সাইড(CO2) এর মাত্রা ছিল 270 ppm, ১৯৫০ সালে দাঁড়াল 310 ppm এ, আর এখন সেটা 400 ppm এর উপরে । ঘোর ভয়ের ব্যপার হল এই ২৭০ থেকে ৪০০ বৃদ্ধির অর্ধেকটাই গত ত্রিশ বছরের অবদান।

তাহলে প্রথম কথায় ফিরে আসি – জীব – বৈচিত্র(বায়ো-ডাইভারসিটি) আমাদের কি কাজে লাগে??!!
অনেকে হয়তো ভাবছেন – কেন চিড়িয়াখানায় বাঘ বা জলহস্তির সাথে খুনসুটি করতে পারাই জীব – বৈচিত্রের প্রধানতম উপযোগিতা।
ভুল—ভাবছেন।
মাত্র ১০০ বছরে মানুষের লোভের বলি হয়েছে লক্ষ প্রজাতি ( যা প্রাকৃতিক ভাবে লুপ্ত হতে লাগত কোটি বছর)।
তাই বায়ো-ডাইভারসিটি হল একটি তাপমান যন্ত্র – যা এই সভ্যতার জ্বর মাপে।
যদি একটু সর্দি- জ্বর হয় তবে একটা ক্রোসিন খেলেই জ্বর নেমে যাবে। কিন্তু যদি রোজ রাতে জ্বর আসে – আর সাথে কাশি—তা কি সহজে সারবে??

জীব- বৈচিত্র এটা দেখিয়ে দেয় মানুষের অস্তিত্ব ঠিক কতটা হুমকির মুখে। কারন যতই মার্সিডিজ-পাঁচতারা- উন্নয়ন- রাস্তা- ফ্লাইওভার ফলাই না কেন—আমাদের টিঁকে থাকার শর্তাবলি কিন্তু ওই লুপ্ত হওয়া কচ্ছপের থেকে আলাদা কিছু নয়।
অনেকে ভাবেন আমরা মানুষ—আমাদের তো অনেক দেব-দেবি আছেন (শিব- কালি- আল্লা- গড- বুদ্ধ), তারাই আমাদের রক্ষা করবেন। ওই লুপ্ত হওয়া প্রজাতি গুলির তো ঈশ্বর বা রক্ষাকর্তা নেই—তাই তারা ধুয়েমুছে গেছে। তাই– যদি বিশ্বাসী হন – আপনার বিশ্বাস নিয়ে থাকুন (ধর্মানুভুতি বা বিশ্বাসে আঘাত দেওয়া আমার উদ্দেশ্য নয়)।

আর যদি অবিশ্বাসী হন, পরীক্ষিত সত্যে আর বিজ্ঞানে আস্থা থাকে – তবে হাত মেলান। তবে হাত মেলানোর পূর্বশর্ত হল– নিজেদের লোভ কমিয়ে আনা। নিজের প্রজাতিকে টিঁকিয়ে রাখতে এটুকু তো করাই যায় কারন সত্যিই হাতে সময় বেশি নেই।

কবি তো সেই কবেই বলে গেছেন– “দীনতা অন্তিম গুণ — অন্তহীন নক্ষত্রের আলো।।”
———————————————————————————
তথ্য – সুত্রঃ
১। Surviving the 21st Century Humanity’s Ten Great Challenges and
How We Can Overcome Them 1/ed. 2017, Julian Cribb, Springer
২। http://wwf.panda.org/about_our_e…/all_publications/lpr_2016/
৩। http://www.zujiwangluo.org/author/ronna/
৪। http://peakoilbarrel.com/the-problem-of-the-human-populati…/

Advertisements

আমি দীন হয়েছি ভজন গুণে

——————————————————————–

এই দেশেতে এই সুখ হল

আবার কোথায় যাই না জানি

পেয়েছি এক ভাঙ্গা নৌকা, জনম গেল সেঁচতে পানি ।।

আর কি রে এই পাপীর ভাগ্যে , দয়াল – জানের দয়া হবে

আমার দিন এই হালে যাবে

বাহিয়ে পাপের তরণী ।

কার দোষ দিব এই ভুবনে দীন হয়েছি ভজন গুণে

লালন বলে কত দিনে — পাব সাঁই- এর চরণ – দুখানি ।

< জয় লালন সাঁই >

আনন্দই জীবনের চালিকা শক্তি৷

আনন্দই জীবনের চালিকা শক্তি৷ সুখী মানুষরা বেশিদিন বাঁচেন৷ আশাবাদ ও ইতিবাচক চিন্তা হৃদরোগ ঠেকিয়ে রাখে, আমাদের শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়৷ জেনে নিন আরও সুখী হবার ১০টি উপায়৷

নিঃসঙ্গ থাকবেন না, সঙ্গী খুঁজুন

সম্পর্ক মানুষকে সুখী থাকতে সাহায্য করে৷ যাঁরা সমাজে নানা রকম মানুষের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক রেখে চলেন, তাঁরা অন্যদের তুলনায় আরও সুখী ও সুস্থ থাকেন এবং আরও বেশিদিন বাঁচেন৷ বন্ধুবান্ধব ও পরিবারের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক জীবনে ভালোবাসা ও বেঁচে থাকার অর্থ নিয়ে আসে এবং আত্মবিশ্বাস বাড়ায়৷ নিজের সম্পর্কগুলি আরও মজবুত করে তুলুন, নতুন সম্পর্ক গড়ে তুলুন৷ সুখী হওয়ার জন্য এটা অত্যন্ত জরুরি৷

অন্যদের জন্য কিছু করুন

অন্যদের সাহায্য করা নিজেদের সুখের চাবিকাঠি – এটা আমাদের আরও আনন্দ দেয়, আরও স্বাস্থ্যবান করে তোলে৷ মানুষের মধ্যে সম্পর্কের ভীত আরও মজবুত হয়৷ ফলে সার্বিকভাবে সমাজের উপকার হয়, সবাই সুখী হয়৷ সব ক্ষেত্রে প্রশ্নটা টাকা-পয়সার নয়৷ সময়, আইডিয়া, শ্রম দিয়েও সাহায্য করা যায়৷ অতএব মন ভালো করতে ভালো কিছু করুন৷

নিজের শরীরের যত্ন নিন

শরীর ও মন একে অপরের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত৷ শরীর সক্রিয় থাকলে মনও খুশি থাকে, স্বাস্থ্য ভালো থাকে৷ ‘মুড’ ভালো থাকলে মানসিক অবসাদ থেকেও বেরিয়ে আসা যায়৷ এর জন্য প্রতিদিনই অনেক সহজ কাজ করা যায়৷ যেমন ঘরের বাইরে গিয়ে তাজা বাতাস নেওয়া ও যথেষ্ট ঘুমানো৷

পছন্দের লক্ষ্য স্থির করুন

ভবিষ্যৎ সম্পর্কে ইতিবাচক মনোভাব মনের সুখের জন্য জরুরি৷ ‘মোটিভেশন’-এর জন্য সবারই কিছু লক্ষ্যের প্রয়োজন হয়৷ তবে সেগুলি অবাস্তব হলে চলবে না৷ তা না হলে অকারণ ‘স্ট্রেস’ বা মানসিক চাপ সৃষ্টি হবে৷ উচ্চাকাঙ্ক্ষা এবং বাস্তবের কাঠামোর মধ্যে লক্ষ্য স্থির করলে জীবন সঠিক দিশায় চালিত হবে৷ সেই লক্ষ্য পূরণ করতে পারলে মনে পরিতৃপ্তি ও সন্তুষ্টি আসবে৷

আশেপাশের জগত সম্পর্কে অবগত হন

কখনো কি আপনার মনে হয়েছে যে, জীবন থেকে আরও কিছু পাওয়ার আছে? সুখবর হলো, সত্যি জীবনে আরও অনেক কিছু আছে৷ থমকে দাঁড়িয়ে আমাদের সেটা অনুধাবন করতে হবে৷ মনোযোগ বাড়ালে জীবনের সব ক্ষেত্রে ভালো লাগার অনুভূতি বাড়ে৷ বর্তমান কালে সজাগ থাকলে অতীত সম্পর্কে অনুতাপ হবে না, ভবিষ্যৎ সম্পর্কেও সব সময়ে দুশ্চিন্তা থাকবে না৷

চাই ‘পজিটিভ’ চিন্তাধারা

আনন্দ, কৃতজ্ঞতা ও সন্তুষ্টির মতো ইতিবাচক আবেগ শুধু কিছু সময়ের জন্য ভালো নয়৷ বার বার এই সব অনুভূতি ফিরে আসলে জীবন সার্বিকভাবে আরও সুখকর হয়ে ওঠে৷ জীবনে সুখ-দুঃখ আছে বটে, কিন্তু কোনো পরিস্থিতির ভালো দিকটির প্রতি মনোযোগ দিলে সত্যি উপকার হয়৷ পাত্রের অর্ধেকটা ভরা দেখলেই ভালো, অর্ধেকটা খালি নয়৷

শিক্ষা বন্ধ করবেন না

ভালো থাকার ক্ষেত্রে শিক্ষার ইতিবাচক প্রভাব থাকতে পারে৷ মনে নতুন আইডিয়া আসে, আমাদের কৌতূহলী ও সক্রিয় থাকতে সাহায্য করে৷ শিক্ষা মনকে তৃপ্তি দেয়, আত্মবিশ্বাস ও ক্ষমতা বাড়িয়ে তোলে৷ নতুন কিছু শেখার অনেক সুযোগ রয়েছে – যেমন নতুন কোনো দক্ষতা, ভাষা, খেলা, গান ইত্যাদি৷

নতুন করে জেগে উঠতে শিখুন

প্রত্যেকের জীবনেই ‘স্ট্রেস’, কিছু বা কাউকে হারানো অথবা অন্য কোনো খারাপ অভিজ্ঞতা রয়েছে৷ আমরা কীভাবে তার মোকাবিলা করি, তার উপর আমাদের ভালো থাকা না-থাকা নির্ভর করে৷ আমাদের জীবনে কী ঘটবে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আমরা নিজেরা তা স্থির করতে পারি না৷ কিন্তু যা ঘটে গেছে, সে বিষয়ে আমরা আমাদের মনোভাব স্থির করতে পারি৷ একটি সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী অনেক কিছুর মতো প্রতিরোধ ক্ষমতাও শেখা যায়৷

নিজেকে নিয়ে সন্তুষ্ট থাকুন

কেউই নিখুঁত নয়৷ কিন্তু আমরা বার বার বাকিদের সঙ্গে নিজের তুলনা করি৷ নিজের যা নেই, তা নিয়েই যদি বেশি মাথা ঘামাই, তাহলে সুখী হওয়া কঠিন৷ বরং যা আছে, তা নিয়েই বেশি ভাবা উচিত৷ বিশেষ করে কঠিন সময়ে আমরা যেমন, সেটা মেনে নিতে শিখলে এবং নিজের প্রতি আরো সদয় হলে জীবনে আনন্দ বাড়বে৷ অন্যদেরও তাদের মতো করে মেনে নিতে সুবিধা হবে৷

নিজেকে বৃহত্তর জগতের অংশ হিসেবে দেখুন

যে মানুষ জীবনের অর্থ দেখতে পান, তিনি অনেক বেশি সুখী হন৷ তাঁর মানসিক চাপ, ভয় ও অবসাদের মাত্রাও কম হয়৷ ধর্মীয় বিশ্বাস, সন্তানের পিতা বা মাতা হওয়া – এমনকি নতুন চাকরিও জীবনে অর্থ বয়ে আনতে পারে৷ প্রত্যেকের জন্যই এই বোধ ভিন্ন হয়৷ কিন্তু প্রতিটি ক্ষেত্রেই এই বোধ আসে, যে আমরা বৃহত্তর জগতের একটা অংশ মাত্র৷ আরও এমন পরামর্শ রয়েছে নীচের ওয়েবসাইটে৷

সংসারে কিছুই সার নাই; আমড়ার কেবল আঁটি আর চামড়া

thakurতুমি ঠিকই বলেছ ঠাকুর,”সংসারে কিছুই সার নাই; আমড়ার কেবল আঁটি আর চামড়া ”
*****************************************************************************************
বদ্ধজীবের — সংসারী জীবের — কোন মতে হুঁশ আর হয় না। এত দুঃখ, এত দাগা পায়, এত বিপদে পড়ে, তবুও চৈতন্য হয় না।
“উট কাঁটা ঘাস বড় ভালবাসে। কিন্তু যত খায়ে মুখ দিয়ে রক্ত দরদর করে পড়ে; তবুও সেই কাঁটা ঘাসই খাবে, ছাড়বে না। সংসারী লোক এত শোক-তাপ পায়, তবু কিছুদিনের পর যেমন তেমনি। স্ত্রী মরে গেল, কি অসতী হল, তবু আবার বিয়ে করবে। ছেলে মরে গেল কত শোক পেলে, কিছুদিন পরেই সব ভুলে গেল। সেই ছেলের মা, যে শোকে অধীর হয়েছিল, আবার কিছুদিন পরে চুল বাঁধল, গয়না পরল! এরকম লোক মেয়ের বিয়েতে সর্বস্বান্ত হয়, আবার বছরে বছরে তাদের মেয়ে ছেলেও হয়! মোকদ্দমা করে সর্বস্বান্ত হয়, আবার মোকদ্দমা করে! যা ছেলে হয়েছে তাদেরই খাওয়াতে পারে না, পরাতে পারে না, ভাল ঘরে রাখতে পারে না, আবার বছরে বছরে ছেলে হয়!
“আবার কখনও কখনও যেন সাপে ছুঁচো গেলা হয়। গিলতেও পারে না, আবার উগরাতেও পারে না। বদ্ধজীব হয়তো বুঝেছে যে, সংসারে কিছুই সার নাই; আমড়ার কেবল আঁটি আর চামড়া। তবু ছাড়তে পারে না। তবুও ঈশ্বরের দিকে মন দিতে পারে না!

আন্দামানের মান্দাপিসি

আন্দামানের মান্দাপিসি নিজের পাপের খন্ডনে
কাতার থেকে ভাতারসহ পৌঁছে গেলেন লন্ডনে ।
গিয়েই দেখেন হাওয়ায় ঘোরে ময়দামিলের পাখা
মেনগেটেতে একটা কমেন্টবই সেখানে রাখা ।

এক সাহেবে শুধোন দিদি—হোয়াই পাখা ঘোরে ?
পকেট থেকে গীতার প্রকাশঃ সাহেব পড়েন জোরে ।
‘যদা যদা ধর্মহানি, তক্ষুনি তার কল ,
বনবনিয়ে ঘুরবে হাওয়ায় , এটাই প্রতিফল !

পিসি তখন যত্নকরে লিখলো কমেন্টবুকেঃ
ভেবেছিলাম কলকাতাটাই বিলেত হবে টুকে ।
এ যে দেখি লন্ডনরই ক্যালকেসিয়ান-ঢং
বাজান সাহেব মোড়ে মোড়ে জোরসে টেগোর-সং,
উৎকোচ এবং !!!

।।শুভ জোয়ারদার ৩০ জুলাই ২০১৪।।